ট্রাষ্টের সংবিধান

                                                                                                                                        পৃষ্ঠা-০১
ট্রাষ্টের সংবিধান
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“ফাহিম আল্‌ চৌধুরী ট্রাস্ট” এর আইন-
১. ট্রাস্টের নাম- এই ট্রাস্ট “ফাহিম আল্‌ চৌধুরী ট্রাস্ট” নামে অভিহিত হবে।
২. কার্যক্রম শুরু-
এই ট্রাস্টের কার্যক্রম বিগত কয়েক বছর ধরে ট্রাস্ট নাম বিহীন চলমান আছে তবে ফাহিম আল্‌ চৌধুরী ট্রাস্ট নামে কার্যক্রম ২০২৪ সাল থেকে কার্যকর হবে।
৩. ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয়:
সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলাধীন শাহবাগ মহিদপুরস্ত ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠাতার নিজ বাড়িতে প্রধান কার্যালয় থাকবে, তবে প্রতিষ্ঠাতার পূর্বানুমোদনক্রমে জকিগঞ্জ –কানাইঘাট উপজেলার যেকোন স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

৪. কর্ম এলাকাঃ
ট্রাস্টের কর্ম এলাকা আপাততঃ সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠাতার পূর্বানুমোদনক্রমে এর কর্মপরিধি বাংলাদেশের অন্য উপজেলা ও জেলায় বা সমগ্র বাংলাদেশে সম্প্রসারণ করা যাবে।
৫. ট্রাষ্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরুপ-
ক) জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমুহের তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের ৬ষ্ঠ- ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩5 ও গণিত-৩5 সর্বমোট ১০০ নম্বর) মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে সর্বমোট ৫০০ জনকে (মেধাগ্রেডে ২৫০০/- প্রথম গ্রেডে ২০০০/- ও সাধারণ গ্রেডে ১৫০০/- টাকা করে) এককালীন মেধাবৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান।
খ) এতীম, অসহায় ও অতি দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পোষাক,বই-খাতা ও স্কুল ব্যাগ ক্রয় এর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান।
গ) সরকারি,বেসরকারি, কওমী ও হিফজ মাদ্রাসার দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহায়তা প্রদান।
ঘ) বন্যা ও যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দুর্গতদের সাহায্যে ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মসূচী গ্রহণ করে সহায়তা প্রদান।
ঙ) জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এতিম, অসহায়, দুঃস্থ, ছিন্নমূল ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির কল্যাণে কর্মসূচী গ্রহণ করে সেবা প্রদান।
চ) দরিদ্র জনগোষ্ঠির দরিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন ।
ছ) কর্ম এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ইত্যাদির সংস্কার সাধন ও প্রয়োজনে নতুন রাস্তা তৈরি করার লক্ষ্যে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা
জ) মাদকদ্রব্য সেবন ও ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ
ঝ) নারী সমাজকে মানব শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার নিমিত্তে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা
ঞ) বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং গরীব বিবাহযোগ্য মেয়েদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান।
ট) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কক্ষ ও নামাজ কক্ষ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

                                                                                                                                         পৃষ্ঠা-০2
৬. ট্রাস্টের তহবিল –
ক) ট্রাস্টের তহবিল দুইটি ভাগে বিভক্ত থাকবে, যথা:-
(১) স্থায়ী তহবিল, এবং
(২) চলতি তহবিল।
খ) এই আইনের অধীন ট্রাস্ট গঠিত হবার পর ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠাতা জনাব ফাহিম আল চৌধুরী যতশীঘ্র সম্ভব, ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকল্পে প্রথমে ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা নগদ যে কোনো ব্যাংকের শাখায় “ফাহিম আল্‌ চৌধুরী ট্রাষ্ট” নামে একটি স্থায়ী তহবিল ও বাৎসরিক লভ্যাংশ জমা হওয়ার জন্য একটি চলতি তহবিল হিসাব খুলবেন।
গ) ট্রাষ্টের সভাপতি /সহসভাপতি ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে। কোন ক্রমেই একজনের স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবেনা।
ঘ) বৎসর শেষে প্রদত্ত লভ্যাংশ চলতি হিসেবে জমা হবে। স্থায়ী তহবিলের লভ্যাংশ ছাড়াও তিনি সময় সময় উক্ত হিসেবে আর্থিক অনুদান প্রদান করবেন।
ঙ) শুধুমাত্র লভাংশ ব্যতিত কোন ক্রমেই স্থায়ী আমানতের মূল টাকা উঠানো বা স্থায়ী আমানত তহবিল ভাঙানো যাবেনা।
চ) সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, প্রবাসীগণ, আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকার ট্রাস্ট এর কার্যক্রমে সন্তোষ হয়ে চলতি হিসেবে আর্থিক অনুদান প্রদান করতে চাইলে তা সাদরে গ্রহন করা হবে।

৭. ট্রাষ্টের পরিচালনা ও প্রশাসন-
ট্রাস্ট এর কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাস্টি বোর্ডের উপর ন্যাস্ত থাকবে।
ক. জনাব ফাহিম আল্‌ চৌধুরী এই ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের আজীবন সভাপতিও হবেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী,পুত্র ও কন্যা যে কেউ উত্তরাধিকারী হিসেবে উক্ত ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি মনোনীত হবেন এবং তা পরবর্তী ও তৎপরবর্তী উত্তরাধিকারীদের মধ্যেও অব্যাহত থাকবে ।
খ. জনাব এটিএম সেলিম চৌধুরী এই ট্রাস্টের আজীবন সহ-সভাপতি হবেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি কর্তৃক সহ সভাপতি মনোনীত হবেন এবং তা পরবর্তী ও তৎপরবর্তী উত্তরাধিকারীদের মধ্যেও এভাবে অব্যাহত থাকবে।

গ. ট্রাস্টের সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ১০ জন সদস্য যাদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে ৩ জন ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে ০২ জন, মাদ্রাসা্সমুহের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে ০১ জন, কানাইঘাট উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে ০২ জন ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে ০২ জন (মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের মনোনীত প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্য থেকে যে কোন একজন সদস্য সচিব মনোনীত হবেন) এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি কর্তৃক তাঁর পরিবারের জৈষ্ঠ্য ০১ জন সদস্য (যিনি সহ-সভাপতিও হবেন) অর্থাৎ সভাপতি ০১ জন, সহ-সভাপতি ০২ জন সদস্য সচিব ০১ জন ও সদস্য ০৯ সর্বমোট ১৩ জন সদস্যকে নিয়ে সম্মানিত ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হবে।
ঘ) ধারা ৮ এর অধীন মনোনীত ট্রাস্টিগণ তাদের মনোনয়নের তারিখ হতে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হবার পূর্বে সভাপতি যে কোন মনোনীত সদস্যকে কোনরুপ কারণ দর্শানো ব্যতিরেখে তাঁর দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান ও অন্য কাউকে মনোনীত করতে পারবেন।

                                                                                                                                         পৃষ্ঠা-০3

৮. ট্রাস্টিবোর্ডের দায়িত্ব ও কর্তব্য-
ট্রাস্ট যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করতে পারে উক্ত ট্রাস্টি বোর্ডও সেসকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সমপাদন করতে পারবে।

ক) সভাপতির দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা:
১) তিনি ট্রাস্টিবোর্ডের প্রধান এবং ট্রাস্টের প্রধান কর্মকর্তা হিসাবে গণ্য হবেন। ট্রাস্টিবোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ট্রাস্টের যাবতীয় কার্যাবলী সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করা তার দায়িত্ব।
২) তিনি ট্রাস্টের সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় তিনি শুধু নির্ণায়ক ভোট দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে রুলিং দেয়ার অধিকারী থাকবেন।
৩) তিনি ট্রাস্টবোর্ডের সভা্র আলোচ্যসূচী বহির্ভূত বিষয় সম্বন্ধে আলোচনার জন্য অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার রাখেন এবং তার অনুমতির পর তৎক্ষনাৎ তা আলোচ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত হবে।
৪) তিনি গঠনতন্ত্রের যে কোন ধারা, উপধারা ব্যাখ্যা দেয়ার অধিকারী হবেন।
খ) সহসভাপতির দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা:
১) সভাপতির অনুপস্থিতিতে তিনি আর্থিক বিষয়াদি ছাড়া অন্যান্য সকল বিষয়ে সভাপতির মতই দায়িত্ব পালন করবেন।
২) সভাপতির অনুমোদনক্রমে তিনি আর্থিক বিষয়ে সভাপতির মতো ভূমিকা রাখতে পারবেন।

গ) সদস্য সচিবের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা:
১) তিনি ট্রাস্টিবোর্ডের দ্বিতীয় প্রধান ব্যাক্তি হিসাবে সভাপতির পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
৩) সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চিঠি-পত্র আদান প্রদান সদস্য সচিবের স্বাক্ষরে হবে।
৪) তিনি ট্রাস্টের কর্মচারীদের পরিচালনা, তদারকি ও সমন্বয় সাধন করবেন।
৫) সভাপতির অনুমোদন নিয়ে তিনি ট্রাস্টিবোর্ডের সভা আহবান করবেন।
৬) তিনি ট্রাস্টের সকল সভা পরিচালনা করবেন।
৯. গঠনতন্ত্রের সংশোধন:
ট্রাস্ট আইনের কোন বিষয়ের উপর সংশোধনী আনয়নের প্রয়োজনীতা দেখা দিলে উক্ত সংশোধনী প্রস্তাব/ প্রস্তাবাবলী ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন করতে হবে। ট্রাস্টিবোর্ডে অনুমোদিত হলে তা সভাপতির নিকট প্রেরণ করা হবে ট্রাস্টিবোর্ডের সভাপতি তাতে লিখিত অনুমোদন দিলে ট্রাস্টের আইনের সংশোধন হিসাবে তা কার্যকর হবে।
১০. বিলুপ্তি:
কোন সুনির্দিষ্ট কারণে অথবা কোন এক সময়ে ট্রাষ্ট পরিচালনার প্রয়োজন না হলে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অথবা তাঁর অবর্তমানে তাঁর উত্তরাধীকারিদের মধ্যে যিনি সভাপতি মনোনীত হবেন তিনি ট্রাস্ট বিলুপ্ত ঘোষনা করে তিনি নিজে এবং অপরাপর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবেন শরিয়ত সম্মত মাসআলা অনুযায়ী সবাই ব্যংকে রক্ষিত আমানত সমূহ বণ্ঠন করে নিতে পারবেন ।

                                                                    সমাপ্ত