জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের গর্ব, আমাদের অহংকার, মানবতার দিশারি, শিক্ষানুরাগী এবং উন্নয়ন সাধনায় নিবেদিতপ্রাণ জনাব ফাহিম আল্ চৌধুরী। তাঁর কর্ম, উদারতা ও অবদান কেবল এই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমগ্র জাতির জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর অঙ্গীকার—শিক্ষার মানোন্নয়ন, সমাজের কাঠামোগত উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, শিক্ষা ও মানবিকতার মাধ্যমেই একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
মানুষ মানুষের জন্য—এই চিরন্তন মানবিক দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি নীরবে ও নিরলসভাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর নাম কেবল একজন সফল ব্যক্তির পরিচয় নয়; এটি মানবতা, করুণা, ত্যাগ ও নৈতিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশে কিংবা বিদেশে—যেখানেই মানবিক বিপর্যয়, সেখানেই তিনি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
ফাহিম আল্ চৌধুরীর মানবতা কোনো ভৌগলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নয়—তাঁর সহানুভূতির পরিধি বিস্তৃত ও দৃঢ়। ২০০৪ সালের থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ সুনামিতে তিনি কেবল দূর থেকে ধারনা করলেন না; তখনকার এক কিশোর হয়ে তিনি সরাসরি সেখানে এক মাস স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে থেকে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আর্তমানুষের জন্য আশ্রয় স্থাপনের কাজে নিজে অংশগ্রহণ করেন। সেই অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর মানবিক জীবনের একটি মোড়—সেই মুহূর্ত থেকে দেশের ভেতর ও বাইরে কেউ বিপদে পড়লেই তিনি নীরবে সাহায্য করে যাচ্ছেন।
২০০৭ সালের সিডরের পর উত্তরবঙ্গে যেদিন অগণিত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল, তৎক্ষণাৎ তিনি নিজ উদ্যোগে সেখানে তিনি ৮০টি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন । আজও ঐ ঘরগুলো বহু পরিবারের মাথা গোজার নিরাপদ ঠিকানা। শুধু দেশে নয় বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে আফ্রিকার দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে তিনি নিশ্চিত করেছেন বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন—যেখানে দশ হাজারেরও বেশি পরিবারের জন্য পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন; সেখানে এক ফোঁটা পানি বহু নেতৃত্বের সমকক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, আর তাঁর এই অনুদান বহু জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের কষ্ট, ক্ষুধা ও বিধ্বস্ত এলাকার জন্য তিনি বহু বছর ধরে খাদ্য, চিকিৎসা, ওষুধ, জরুরি তহবিল এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে অবিচল সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন—এই সহায়তা সেখানে নির্ভরযোগ্য মানবিক সমম্বয় হিসেবে পরিগণিত। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের কাবুলে তাঁর মায়ের স্মৃতিতে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদটি আন্তর্জাতিকভাবে তাঁর মানবিক সত্তার আরেকটি আবক্ষ চিহ্ন। এসব কর্মকাণ্ড দেখায়—দূরবর্তী দেশের কষ্টও তাঁর হৃদয়ে সমান স্থান পায়, আর তিনি সেখানেও বাস্তবভাবে দাঁড়ান।
ট্রাস্টের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ :
১. মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান।
২. নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ।
৩. যুবসমাজকে দক্ষ ও স্বনির্ভর করে তুলতে প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
৪. দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ প্রদান।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
৬. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট এবং গ্রামীণ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন।
৭. প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
৮. স্বাস্থ্যসেবা এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সহায়তা।
৯. নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা।
ফাহিম আল চৌধুরীর দৃঢ় বিশ্বাস—সম্পদ কেবল ভোগের জন্য নয়, বরং সমাজের কল্যাণে ব্যয় করলেই তার প্রকৃত সার্থকতা। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, শ্রম ও সম্পদ ব্যয় করে যাচ্ছেন মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য। মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই তাঁর সকল কর্মকাণ্ডের মূল প্রেরণা।
জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন দানশীল ব্যক্তি নন—তিনি গর্ব, আশ্রয় ও অনুপ্রেরণার নাম। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছে। তাঁর চিন্তা ও কর্ম প্রমাণ করে—একটি অঞ্চলকে বদলে দিতে বড় কোনো পদ নয়, দরকার বড় হৃদয়।এই মানবিক দর্শনেরই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হলো “ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট”। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ১০ কোটি টাকা অনুদানে ট্রাস্টটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই ট্রাস্ট অল্প সময়েই একটি স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং পুরোপুরি জনস্বার্থকেন্দ্রিক।
শিক্ষা উন্নয়নকে তিনি সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেন। সেই লক্ষ্যে ট্রাস্টের মাধ্যমে নিয়মিত মেধা বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত “ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট মেধাবৃত্তি পরীক্ষায়” জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার ৩৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩য় থেকে ১০ম শ্রেণির প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত এই পরীক্ষার মাধ্যমে আট শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। একইসাথে প্রতিটি অংশগ্রহণকারীকে পরীক্ষার দিনই স্কুলব্যাগ ও শুকনো খাবার প্রদান করে শিক্ষার প্রতি উৎসাহ জাগিয়ে তোলা হয়েছে। এই উদ্যোগ মেধা ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর জীবনকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।
স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার—এই উপলব্ধি থেকে ট্রাস্ট পরিচালনা করছে চক্ষু সেবা কার্যক্রম। বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছেন। পাশাপাশি দরিদ্র ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য আর্থিক চিকিৎসা সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে।
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট নিয়মিতভাবে অসহায়, দুস্থ ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ প্রদান এবং জরুরি মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অনুদান প্রদান করা হয়েছে। দেশীয় গ্রামাঞ্চলে সড়ক, ঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনযাপনই স্থিতিশীল হয়েছে।
একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—ফাহিম আল চৌধুরী ২০০২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর এই নীরব সমাজসেবা সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
ফাহিম আল চৌধুরী কেবল একজন দানশীল ব্যক্তি নন, তিনি মানবিক সমাজ গঠনের এক অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতীক। তাঁর কর্মদর্শন নতুন প্রজন্মকে মানবতার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করছে। ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত—শিক্ষা সম্প্রসারণ, চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের নতুন নতুন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করা।
আধুনিক সমাজে যখন স্বার্থপরতার প্রবণতা বাড়ছে, তখন ফাহিম আল চৌধুরীর মতো মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব একটি উজ্জ্বল ব্যাতিক্রম। তাঁর মানবপ্রেম, মহানুভবতা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মযজ্ঞ নিঃসন্দেহে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশ-বিদেশে মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানো—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। মানুষের কল্যাণে তাঁর এই অবদান সমাজের কাছে এক অমূল্য দৃষ্টান্ত।
জনাব ফাহিম আল্ চৌধুরী সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার মহিদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত ডা. মৌলভী আব্দুল মুসাব্বির চৌধুরী এবং মাতা প্রয়াত জাহানারা বেগম চৌধুরী। সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি অষ্টম সন্তান। উচ্চশিক্ষিত এই গুণী ব্যক্তি ব্যবসা ও সমাজসেবায় অসামান্য সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য, আরব আমিরাত, আফ্রিকা এবং কানাডায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বর্তমানে তিনি Feeha Capital and Micro Finance Chairman, chairman & CEO Farishta Bint Fahim Property Ltd., এবং Fahim the Developer Real Estate Development LLC-এর চেয়ারম্যান ও সিইও।
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের এই মহৎ উদ্যোগে সকলকে সম্পৃক্ত হতে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
“শিক্ষা, মানবতা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলুক ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট।”
ধন্যবাদ।
সচিব,
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট।




